চাটখিল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
চাটখিল (নোয়াখালী)
নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল জোনাল অফিসের( ডিজিএম) জুনায়েদ আলমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার কাছে জরুরী প্রয়োজনে গ্রাহকরা কোন অভিযোগ করলে অভিযোগের কোন গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের । ছোটখাটো কাজের জন্য একাধিকবার তার কাছে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে গ্রাহকরা। তিনি নিজের ইচ্ছা মত কাজকর্ম করে থাকেন। এছাড়া তিনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গাড়ি নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে থাকে প্রতিনিয়ত। তার বাচ্চাকে চাটখিল আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি গাড়িতে করে আনানেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়- চাটখিল পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পূর্ব গোবিন্দপুর গনি সাহেব বাড়ির নূর হোসেন পলাশের ২মাসের বিদ্যুৎ বিল না দেওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীরা। পরে বিল পরিশোধ করার পর পুনরায় সংযোগ দিতে গিয়ে লাইন ম্যান মিটার ভেঙে ফেলেন। যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। এই বিষয়ে নূর হোসেন পলাশের ভাই আলমগীর হোসেন হিরু নতুন মিটার লাগানোর জন্য ডিজিএম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ দেওয়ার জন্য বলেন। বিলের কাগজ দেওয়ার এক মাসে অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি নতুন মিটার লাগানো হয়নি। অন্যদিকে পরকোট গ্রামের প্রবাসী আনোয়ার হোসেন এর বাড়িতে বিল্ডিং করার জন্য ওই বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে মিটার সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রবাসীর স্ত্রী বার বার আবেদন নিবেদন করলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি । তার পর শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত ঘরের মালিক শফিউল্লাহর পক্ষে তার মেয়ের জামাই আনোয়ার হোসেন মিটারের বকেয়া টাকা পরিশোধ করে মিটারটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য গত ৮দিন আগে টাকা জমা দিলেও এখনোও মিটারটি সরিয়ে নেওয়া হয়নি। অপরদিকে ছয়ানী টবগা গ্রামের হাছান নামের এক গ্রাহক তার মিটার থেকে ১৮ থেকে ২০ টি অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেয়। এতে করে লো ভোল্টেজের কারণে আশপাশের গ্রাহকদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া সহ বিভিন্ন সমস্যা পোড়াতে হচ্ছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অনেক অভিযোগ রয়েছে। প্রতিনিয়ত লোডশেডিং বিষয়ে অথবা কোন দুর্ঘটনার কারণে ডিজিএমকে ফোন দিলেও পাওয়া যায় না। অনেক গ্রাহকের মিটারের টাকা জমা দেওয়ার পরেও মিটার লাগানো হয় না। আবার অনেকে অভিযোগ করে বলেন খুঁটি ও মিটারের টাকা জমা দেওয়া হলেও খুঁটি মিটার লাগানো হয় নাই। একাধিক গ্রাহকের সাথে কথা বলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। অফিসের বিভিন্ন ইলেকট্রিশিয়ানদের সাথেও করে চরম দুর্ব্যবহার।
এই বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল জোনাল অফিসের ডিজিএম জুনায়েদ আলম এর সাথে কথা বলার জন্য তাঁকে বার বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।