নেত্রকোনার পূর্বধলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব সিন্ডিকেটে জিম্মি সেবাগ্রহীতারা.
পূর্বধলা নেত্রকোনা প্রতিনিধি)
নেত্রকোনার পূর্বধলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চলছে প্রকাশ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব। অফিস সহকারী হাফিজ উদ্দিন এবং নকলনবিশ শ্রী সুজন চন্দ্র দাসের শক্তিশালী এক সিন্ডিকেটের কাছে চরম জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ সেবা প্রত্যাশীরা। সরকারি নির্ধারিত ফি-কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বধলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিটি সেবামূলক কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট সরকারি ফি নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে চলছে প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। ভুক্তভোগীদের তীব্র অভিযোগ, এই বিশাল অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের পেছনে খোদ সাব-রেজিস্ট্রারেরও পরোক্ষ যোগসাজশ রয়েছে।
সম্প্রতি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক এক হতদরিদ্র ভুক্তভোগী গ্রাহক নিজ খরচে স্ট্যাম্প কম্পোজ করা দুটি দলিলে নকল (সার্টিফাইড কপি) তুলতে অফিসে যান। নিয়ম অনুযায়ী যেখানে প্রতি নকলের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা খরচ হওয়ার কথা, সেখানে অফিস সহকারী হাফিজ উদ্দিন ওই গ্রাহকের কাছে ৪,০০০ টাকা দাবি করেন।
নিরুপায় হয়ে ওই দরিদ্র গ্রাহক সাব-রেজিস্ট্রারের শরণাপন্ন হলে, অফিসার নকলনবিশ সুজন চন্দ্রকে ডেকে শুধু সরকারি ফি রাখার নির্দেশ দেন। তবে সাব-রেজিস্ট্রারের নির্দেশকে প্রকাশ্যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সুজন চন্দ্র -সাফ জানিয়ে দেন— “অফিসার কী বলল তাতে কিছু যায় আসে না। ৪,০০০ টাকা ছাড়া কোনো নকল ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব না।” শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো উপায় না দেখে, ভুক্তভোগী গ্রাহক তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য পকেটে রাখা ৪,০০০ টাকা এই সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন।
মূল কাজ ফেলে ঘুষ বাণিজ্যে ব্যস্ততা
অভিযোগ রয়েছে, নকলনবিশ হিসেবে সুজন চন্দ্রের মূল দায়িত্ব বালাম বইয়ে দলিল লিপিবদ্ধ করা। অথচ সরকারি সেই মূল দায়িত্ব ফেলে রেখে অতিরিক্ত টাকার লোভে তিনি দিনরাত ‘নকল ডেলিভারি’র কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলে অফিসের মূল নথিপত্র সংরক্ষণের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও রেজিস্ট্রি করা দলিলের মূল রিসিট গ্রাহকদের দেওয়া হচ্ছে না। উৎকুচ না দিলে কোনো দলিল বা দলিলের নকল ছাড় করা হয় না বলেও সাধারণ গ্রাহকরা জানান।
ক্ষমতার প্রভাব ও অশোভন আচরণ
সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অফিস সহকারী হাফিজ উদ্দিন ও নকলনবিশ সুজনের রুক্ষ ও অশোভন আচরণের কারণে প্রতিনিয়ত হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সুজন চন্দ্র দাস বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব ও একটি বিতর্কিত সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যালয়ে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও হাফিজের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় তাঁর এই ঘুষ বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ, এই সিন্ডিকেটের কাছে খোদ সাব-রেজিস্ট্রারও যেন অসহায়, নয়তো তিনি এই বাণিজ্যের পরোক্ষ অংশীদার।
স্ট্যাম্প কম্পোজ করার পরও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায় ও চরম হয়রানির ঘটনায় পূর্বধলার সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা রেজিস্ট্রারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।